Searching…
স্বেচ্ছায় রক্তদান: জীবন বাঁচানোর সবচেয়ে সহজ মানবিক উদ্যোগ
news

স্বেচ্ছায় রক্তদান: জীবন বাঁচানোর সবচেয়ে সহজ মানবিক উদ্যোগ

July 29, 2026 Developer Featured
Back to Posts

রক্ত জীবন বাঁচায়। বিভিন্ন ঔষুধের মতো রক্ত তৈরি করা যায় না, তাই আমরা রক্তদান করে অন্য মানুষের জীবন বাঁচাতে পারি। স্বেচ্ছায় রক্তদান একটি মহৎ কাজ। এটি শুধু রোগীর জীবন বাঁচানো নয়, বরং নিয়মিত রক্তদান হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো ও নতুন রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। একজন সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষ প্রতি তিন-চার মাস অন্তর রক্তদান করতে পারে। মানব দেহে ৫৫% রক্তরস বা প্লাজমা এবং ৪৫% লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্ত ও অনুচক্রিকা থাকে।


বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ ব্যাগ রক্তের চাহিদা রয়েছে। ৩৪ শতাংশ স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে পূরণ হয়। ঘাটতি রক্ত রোগীর পরিবার, আত্মীয়-স্বজনকে জোগাড় করতে হয়। যদি রক্তদানযোগ্য লোক বছরে ২ বার রক্তদান করেন, তাহলে রক্তের চাহিদা পূরণ হওয়া সম্ভব। তবে তা হতে হবে সম্পূর্ন নিরাপদ এবং নিরাপদ রক্ত সঞ্চালনের জন্য ৫টি রোগের স্ক্রিনিং আবশ্যক (হেপাটাইটিস বি ও সি, ম্যালেরিয়া , এইচআইভি, সিফিলিস)।


২০০৫ সাল থেকে প্রতিবছর ১৪ই জুন পালিত হয়ে আসছে বিশ্ব রক্তদাতা দিবস। এই বছরের প্রতিপাদ্য হলো, “মানবতার এক বিন্দু রক্ত দিন, জীবন বাঁচান”। সমাজের যেসব রক্তদাতা স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন, তাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং সাধারণ মানুষকে রক্তদানে উৎসাহিত করতে প্রতিবছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সম্মিলিতভাবে এই দিনটি উদযাপনের জন্য সর্বপ্রথম ২০০৪ সালে উদ্যোগ নেয়। ২০০৫ সালের মে মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ৫৮তম স্বাস্থ্য সমাবেশে ১৯২টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব রক্তদাতা দিবসের সূচনা হয়। আধুনিক রক্ত সঞ্চালন বিদ্যা এবং রক্তের গ্রুপ সিস্টেমের জনক অস্ট্রীয়ান জীব বিজ্ঞানী ও চিকিৎসক কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার এর জন্মদিন ১৪ই জুনকে বিশ্ব রক্তদাতা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও দিবসটি পালিত হয়।


১৮ থেকে ৬৫ বছরের যে কোনো সুস্থ সবল মানুষ রক্তদান করতে পারে। দাতার শারীরিক ওজন অবশ্যই ৫০ কেজি বা তার বেশি হতে হবে এবং রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ, রক্তচাপ ও শারীরিক তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকতে হবে। রক্তদানের প্রধান উদ্দেশ্য হলো অন্যের উপকার করা বা জীবন বাঁচানো। তাই আসুন রক্তদানের মাধ্যমে নিজে সুস্থ থাকি এবং অন্যকে সুস্থ রাখতে অবদান রাখি।



ডাঃ নাসরিন আক্তার

এমবিবিএস, এম.ডি (ট্রান্সফিউশন মেডিসিন)

কনসালটেন্ট

ট্রান্সফিউশন মেডিসিন

এপিক হেলথ কেয়ার লিঃ